ওয়েবসাইট নলেজটেক নলেজতথ্য ও প্রযুক্তি

ওয়েবসাইট বানাতে কি কি লাগে, ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা লাগে

ওয়েবসাইট বানানোর আগে জেনে নিন। ওয়েবসাইট বানাতে কি কি লাগে এবং ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা লাগে এই বিষয়ে সকল ধরনের তথ্য জানুন।

ওয়েব সাইট কি? ওয়েব সাইট বানাবার আগে যা জানা দরকার, ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে, একটি ওয়েবসাইট তৈরির পূর্বে কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত? প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরি করার পূর্বে যে বিষয়গুলি আপনাকে জানতেই হবে, ওয়েবসাইট তৈরির খরচ কত? ও ওয়েবসাইট বানানোর নাড়ি নক্ষত্রসহ বিস্তারিত জেনে নিন।

আপনার যদি উপরোল্লেখিত প্রশ্ন গুলো মনে থেকে থাকে বা এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর জানতে চান তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

আপনি যদি একটি নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করবেন ভাবছেন তাহলে আপনাকে যে বিষয়গুলো জানতে হবে বা নিজের একটি ওয়েবসাইট এর জন্য কি কি প্রয়োজন ও যা যা জানতে হবে তা নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো।

ওয়েবসাইট বানানোর আগে কি কি লাগে এক নজরে দেখে নেই-

  • ওয়েবসাইট বানাতে হবে / ওয়েবসাইট কি? একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা লাগে?
  • ডোমেইন কিনতে হবে / ডোমেইন কি? ডোমেইনের দাম কত?
  • হোস্টিং কিনতে হবে / হোস্টিং কি? হোস্টিং এর দাম কত?
  • ওয়েবসাইট এসইও করতে হবে / এসইও কি? এসইও করতে কত লাগে?

ওয়েবসাইট বানাতে হবে

ওয়েবসাইট কি? একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা লাগে

ওয়েবসাইট হল আপনি যেখানে পোষ্ট করবেন যে পেইজটা মানুষ দেখবে। ধরুন আমি একটি নিউজ সাইটে গেলাম সেখানে যা কিছুই দেখি না কেন সেটাই ওয়েবসাইট। এখন ওয়েবসাইট বানাতে আপনার কত টাকা লাগতে পারে যদি জানতে চান তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনি কি ধরনের ওয়েবসাইট বানাতে চাচ্ছেন। আপনি যদি নিউজ সাইট বানাতে চান তাহলে এক ধরনের বাজেট লাগবে আবার যদি ইকমার্স সাইট বানাতে চান আরেক ধরনের বাজেট লাগবে। সেখানেও আরেকটি বিষয় জানতে হবে, ওয়েবসাইট নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই ধরনের নিতে পারেন যেমন ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে নিতে পারেন আর অন্য কোডিং HTML PHP Laravel Python এসব কোডিং এরও নিতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যেগুলো ডিজাইন করাই থাকে সেগুলো আপনি কম দামের মধ্যেই নিতে পারবেন যেমন নিউজ সাইট চার হাজার থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যেই নিতে পারবেন। আর যদি এইচটিএমএল পিএইচপি লারাবেল পাইথন এসব কোডিং এর ওয়েবসাইট নিতে চান তাহলে যদি কারো নিজের কোডিং করাই থাকে তাহলে দশ হাজার থেকে শুরু করে পঞ্চাশ হাজার টাকাও আপনার কাছ থেকে নিতে পারেন। তবে এখানে আপনাকে অনেক ‍কিছুই বুঝতে হবে কারন আপনার ওয়েবসাইটটি কিসের আপনি কি নরমাল অনলাইনে যেসব ওয়েব সাইট আছে সেগুলোর মত নিবেন নাকি আপনি নতুনভাবে আপনার মনের মত করে ডিজাইন করে নিবেন? সেক্ষেত্রে দাম বেশি পরবে। যদি নিজের মত করে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে নেন তাহলে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকাও লাগতে পারে আবার এই ডিজাইনটিই যদি অন্যসব কোডিং ফাইলের নিতে চান তাহলে ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা বা আরো বেশি লাগতে পারে। তবে এই ওয়েবসাইট নিতে গেলে এক্ষেত্রে ভুয়া কোন লোকের পাল্লায় পরলে আপনার থেকে টাকা নিবে ঠিকই কিন্তু আপনাকে থিম ধরিয়ে দিতে পারে কিছুটা মোডিফাই করে বা ক্রেক ফাইল দিয়ে দিতে পারে। সেগুলোতেও খেয়াল রাখতে হবে। যতটুকু সম্ভব ভাল কোম্পানী থেকে যাচাই বাছাই করে আগে কাজ দেখে তারপর টাকা দিবেন যদি বানিয়ে নিতে চান।

অনেক সময় র কোডিং দিবে বলে কোডিং এর থিম ধরিয়ে দিতে পারে। আপনি চাইলে ওয়েবসাইট বিক্রি করার মত বৃহৎ মার্কেটপ্লেস থিম ফরেস্ট থেকেও বিভিন্ন ডিজাইনের ওয়েবসাইট নিতে পারেন এবং কারোকে দিয়ে কাস্টমাইজ করিয়ে নিতেও পারবেন যদি নিজে নিজে কাস্টমাইজ করতে না পারেন। থিম ফরেস্ট থেকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে একটি ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন।

কোডিং করা ওয়েবসাইট নিতে গেলে আরেকটি কথাও মাথায় রাখতে হবে সেটা হলো ব্যাকেন্ড এ কি ধরনের অপশন আছে দেখে নিবেন। ব্যাকেন্ড হল আপনি যে পোষ্ট করবেন সেটা কিন্তু সরাসরি কোডিং করে পোষ্ট করবেন না। এটার জন্যও একটা সেট্রকচার থাকে, যেমন ফেইসবুকে আমরা যেভাবে পোষ্ট করে থাকি সেভাবেই ওয়েবসাইটেও পোষ্ট করা যায়, যেমন ফেইসবুকে যখন পোষ্ট করতে চান তখন প্রথমে লেখার জন্য একটা বক্স আসে সেখানে লিখেন আবার ছবি পোষ্ট করতে চাইলে একটা অপশন থাকে সেখানে ক্লিক করলে লেখার সাথে ছবিও পোষ্ট করা যায় চাইলে ভিডিও এভাবেই পোষ্ট করা যায়। এই ব্যাকেন্ডে কি কি অপশন আছে সেটাও দেখে নিতে পারেন বা বুঝে নিবেন।

ডোমেইন কিনতে হবে

ডোমেইন কি? ডোমেইনের দাম কত?

ডোমেইন হল একটি ওয়েবসাইটের নাম। যেমন ধরুন quickbangla.com এই নামটি হল ডোমেইন। এই নাম দিয়েই মানুষ অনলাইনে সার্চ দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটকে পাবে। প্রথমেই আপনাকে একটি সুন্দর আকর্ষনীয় নাম ঠিক করতে হবে, আপনি যে ধরনের ওয়েবসাইট বানাতে চাচ্ছেন সে ধরনের মিল রেখে একটি নাম বেছে নিতে হবে। তবে নাম বাছাই করলেই হবে না, এই নামটি অন্যকারো ব্যবহার করছে কিনা এটাও জানতে হবে। প্রথমেই অনেকগুলো নাম চিন্তা করে রাখুন যখন ডোমেইন কিনবেন তখন এই নামটি সার্চ দিয়ে দেখুন খালি আছে কিনা। সেক্ষেত্রে যাদের কাছ থেকে ডোমেইন কিনবেন তারাও আপনাকে সার্চ করে দেখে দিতে পারবে অথবা আপনি নিজেও সার্চ করে আগে দেখে নিয়ে তারপর যাদের কাছ থেকে কিনবেন তাদেরকে বলতে পারেন আমাকে এই নামের ডোমেইনটি ক্রয় করে দিতে।

কিভাবে ডোমেইন সার্চ করে দেখবেন নামটি খালি আছে কিনা, সেক্ষেত্রে যাদের কাছ থেকে ডোমেইন নিবেন তাদের ওয়েব সাইটে গেলে ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন এর অপশন এর এখানেই ডোমেইন সার্চ অপশন আছে সেখানে সার্চ করতে পারেন অথবা অন্যান্য সাইট এর মাধ্যমেও দেখতে পারেন।

একটি ডটকম ডোমেইন এর দাম ১০৫০ টাকার মত লাগে এক বছরের জন্য। পরবর্তীতে এক বছর পর আবার রিনিউ করতে হবে এই দামেই। আপনি চাইলে ৩ বছরের জন্যও এক সাথে রিনিউ করে রাখতে পারেন। এই ডোমেইন আবার অনেক ধরনের হয় যেমন আপনার নামটির পর আপনি .com নিলেন সেটার দাম একটি হয়ে থাকে। আবার .org নিলেন এটার দাম আরেক আবার .net নিলেন এটার দাম আরেক, এভাবে বিভিন্ন নাম আছে ডট এর পর সেগুলোর দাম ভিন্ন ভিন্ন হয় তবে ডটকম ডোমেইনটিই বেশি চলে আবার মানুষও ব্যবহার করে কারন এটার সার্চ র‌্যাংকিং বেশি হয়।

হোস্টিং কিনতে হবে

হোস্টিং কি? হোস্টিং এর দাম কত?

হোস্টিং হল ওয়েবসাইটের ডকুমেন্ট গুলো রাখার জায়গা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে কম্পিউটারের হার্ডডিক্স ও মোবাইলের মেমোরি যে কাজটি করে ঠিক তেমনি ওয়েবসাইটের জন্য হোস্টিং সে কাজটি করে থাকে। ওয়েবসাইটের জন্য ডোমিন কেনার পর পরই দরকার হবে হোস্টিং। এই হোস্টিং বিভিন্ন ক্যাটাগরির রয়েছে যেমন-শেয়ার হোস্টিং, ডেডিকেটেড হোস্টি, ভিপিএস হোস্টিং।

শেয়ার হোস্টিং কি? শেয়ার হোস্টিং মানে হল একটি হোস্টিং কয়েক জনের কাছে বিক্রি করা মানে একটি হোস্টিং এর আওতায় কয়েকটি ওয়েবসাইটের ডকুমেন্ট একসাথেই থাকবে। শেয়ার হোস্টিং কিছুটা স্লো হয়ে থাকে যেহেতু একটা হোস্টিং প্যানেল কয়েকজনই ব্যবহার করে থাকে। আবার অনেক কোম্পানীর শেয়ার হোস্টিংও ভাল হয় কারণ ধরুন একজন কোম্পানী একটা হোস্টিং থেকে ৪ জনকে হোষ্টিং দিল এটা শেয়ার হোস্টিং হয়ে গেল কিন্তু আরেকজন কোম্পানী একটা হোস্টিংকে ভাগ করে ৯ জনকে দিল সেক্ষেত্রে এই হোস্টিংটি স্লো বেশি হবে। আমরা যদি শেয়ার হোস্টিংও কিনতে যাই তাহলে অবশ্যই ভাল কোম্পানীরই কিনতে হবে। শেয়ার হোস্টিং নেয়ার ক্ষেত্রে আপনার কত জিবি লাগবে তার উপর নির্ভর করবে আপনার কত টাকা লাগবে। ১ জিবি নিতে পারেন বা ২০ জিবিও নিতে পারেন এটা আপনার চাহিদা অনুযায়ী। ১ জিবি ১০০০ টাকাও লাগতে পারে বা আরো বেশিও লাগতে পারে। যত বেশি জিবি নিবেন তত কম টাকা লাগবে। হোস্টিং কোম্পানী গুলোর ওয়েবসাইটে গেলেই হোস্টিং এর দাম গুলো দেখতে পারবেন।মানুষ প্রথমত খুব বেশি দরকার না হলে শেয়ার হোস্টিংই ব্যবহার করে থাকে এই হোস্টিংই চলে বেশি।

ডেডিকেটেড হোস্টিং কি?, ডেডিকেটেড হোস্টিং হল এই হোস্টিং এ আপনি একটি আইপি পাবেন যা আপনার জন্যই থাকবে যা অন্য কেউ এই আইপি এড্রেস পাবে না। এই হোস্টিং মূলত তারাই ব্যবহার করে যাদের অনেক বেশি সিকিউরিটি দরকার পরে ওয়েব সাইটের জন্য। যে ওয়েব সাইটে অনেক ভিজিটর থাকে এবং পপুলার যে সব সাইট হয়ে থাকে সেগুলোতেই ডেডিকেটেড হোস্টিং ব্যবহার করা হয়।

ভিপিএস হোস্টিং কি? ভিপিএস হোস্টিং হল শেয়ার হোস্টিং থেকে আরো ভাল মানের এবং ডেডিকেটেড হোস্টিং থেকে নিম্ন মানের। ডেডিকেটেড হোস্টিং যেমন একজনের জন্য একটি আইপি থাকে এমনি ভিপিএস হোস্টিং হল একটি আইপিকে কয়েকজনকে ভাগ করে দেয়।

ওয়েবসাইট এসইও করতে হবে

এসইও কি? এসইও করতে কত লাগে?

আপনি যখনই ওয়েবসাইটটি পরিপূর্ণ ভাবে রেডি করে ফেলবেন বা ওয়েবসাইটটি চালাতে থাকবেন তখন আপনাকে এই সাইটটি seo করার প্রয়োজন পরবে। এসইও হল ওয়েবসাইটের র‌্যাংকিংকে বুঝায়। ইন্টারনেট দুনিয়ায় লাখ লাখ ওয়েবসাইট আছে আবার একই পোষ্টও অনেক অনেক থাকে তারমধ্যে থেকে আপনি যদি গুগলে সার্চ দেন কিছু লিখে সেলেখাটি রিলেটেড দেখবেন অনেকগুলো পোষ্ট আসে এগুলো প্রথমেই আসার কারণ হলো এই এসইও এর কারনেই। এসইও করলে আপনার ওয়েবসাইটটি সার্চে আসবে তাড়াতাড়ি। এই এসইও নিজে নিজে করতে পারলেও হয় আবার কেউকে টাকা দিয়েও করতে পারেন। 

আরো পড়ুন-

Quick Bangla

বাংলা তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট হিসেবে পরিচালিত এই সাইটটি। তাই বাংলায় অনেক ধরনের তথ্যই এখানে পেয়ে যাবেন। আশা করি সঠিক তথ্য বিষয়বস্তু জানতে পারবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

Adblock Detected

Please Turn off ad blocker